প্রাইভেট সেক্টরে চাকরির আগে কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা জরুরি

প্রাইভেট সেক্টরে চাকরির আগে কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা জরুরি

 


বেসরকারি চাকরিতে যোগদানের আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত

বাংলাদেশে বেসরকারি চাকরির বাজার বর্তমানে অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। অনেকেই ভালো ভবিষ্যতের আশায় নতুন কোম্পানিতে যোগ দেন, কিন্তু পরে বুঝতে পারেন—পরিবেশ, বেতন, নীতি বা কাজের চাপ তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে মেলে না। তাই চাকরির অফার পাওয়ার পরই উচ্ছ্বসিত হয়ে না গিয়ে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই-বাছাই করা উচিত।

নিচে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগদানের আগে অবশ্যই যে বিষয়গুলো খেয়াল করা উচিত, সেগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—


🏢 ১. কোম্পানির সুনাম ও স্থায়িত্ব

চাকরিতে যোগদানের আগে জানতে হবে প্রতিষ্ঠানটি কতদিন ধরে ব্যবসা করছে এবং বাজারে তাদের অবস্থান কেমন।

যা যাচাই করবেন:

  • কোম্পানির বয়স কত বছর
  • ব্যবসা স্থিতিশীল নাকি ঝুঁকিপূর্ণ
  • বাজারে সুনাম কেমন
  • কোনো বড় আর্থিক সংকট বা বিরোধ চলছে কিনা

কেন গুরুত্বপূর্ণ?
স্থায়ী ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গ্রোথ, চাকরির নিরাপত্তা এবং শিখার সুযোগ বেশি থাকে।


💰 ২. বেতন কাঠামো ও বেতন বৃদ্ধির নিয়ম

অনেকে শুধুমাত্র অফার লেটারে উল্লেখিত বেতন দেখে জয়েন করে ফেলেন। কিন্তু পুরো বেতন কাঠামো জানা খুব জরুরি।

যা জানবেন:

  • বেসিক স্যালারি + অন্যান্য সুবিধা
  • ইনক্রিমেন্ট কতদিন পর হয়
  • বোনাস কতটি এবং কেমন ধরনের
  • বেতন ঠিক সময়ে দেয় কিনা (এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ)

🕒 ৩. কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম নীতি

অনেক কোম্পানি ৮ ঘণ্টার কথা বলে ১১–১২ ঘণ্টা কাজ নেয়। তাই যোগদানের আগে পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।

যা বুঝে নেবেন:

  • দৈনিক কর্মঘণ্টা
  • সাপ্তাহিক ছুটি কয়দিন
  • ওভারটাইম কি বাধ্যতামূলক?
  • ওভারটাইমের টাকা দেয় কিনা

👨‍💼 ৪. কাজের দায়িত্ব (Job Role)

অফার লেটারে লেখা Job Role & Responsibility ভালোভাবে পড়ে বুঝতে হবে।

যা যাচাই করবেন:

  • আপনার কাজের সীমা কতটুকু
  • কাজ কি আপনার দক্ষতার সাথে মিলবে?
  • ভবিষ্যতে কোনো অপ্রাসঙ্গিক কাজ চাপিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?

🧑‍🤝‍🧑 ৫. কর্মপরিবেশ ও অফিস কালচার

একটি ভালো কর্মপরিবেশ আপনার ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নেয়, আর খারাপ পরিবেশ মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।

খেয়াল রাখুন:

  • সিনিয়রদের আচরণ কেমন
  • কর্মীদের সঙ্গে কোম্পানির সম্পর্ক
  • জব সিকিউরিটি আছে কিনা
  • অফিস পলিটিক্স বেশি কিনা

🔐 ৬. চাকরির চুক্তিপত্র (Agreement)

অনেক কোম্পানি চাকরির চুক্তিপত্রে এমন কিছু শর্ত রাখে, যা পরে সমস্যার সৃষ্টি করে।

যা বুঝতে হবে:

  • কতদিনের বন্ড আছে?
  • চাকরি ছাড়তে নোটিশ পিরিয়ড কত?
  • পেনাল্টি বা জরিমানা আছে কিনা?
  • ভুল তথ্য দিলে আইনি জটিলতা হতে পারে কিনা?

🌟 ৭. ক্যারিয়ার গ্রোথ ও প্রমোশনের সুযোগ

এক জায়গায় অনেক বছর কাজ করেও যদি প্রমোশন বা স্কিল আপগ্রেডের সুযোগ না থাকে, তবে সেই চাকরি মূল্যহীন।

যা দেখবেন:

  • কোম্পানির Training Facility আছে কিনা
  • Promtion এর নির্দিষ্ট নীতি আছে কি?
  • জুনিয়ররা কতদিনে সিনিয়র হয়—সেটা জেনে নিন

🩺 ৮. অতিরিক্ত সুবিধা (Benefits)

একটি ভালো বেসরকারি চাকরির কিছু স্ট্যান্ডার্ড সুবিধা থাকা উচিত।

যেমন:

  • স্বাস্থ্যবিমা
  • বাৎসরিক লিভ/সিক লিভ
  • গ্র্যাচুইটি
  • PF/Provident Fund
  • মোবাইল/ট্রাভেল/মেডিকেল অ্যালাউন্স

🚗 ৯. অফিসের লোকেশন ও যাতায়াত সুবিধা

দূরত্ব যত বেশি, কাজের চাপ ও মানসিক চাপ তত বাড়ে।

যা খেয়াল রাখবেন:

  • যাতায়াতে কত সময় লাগবে
  • কোম্পানি কি পরিবহন সুবিধা দেয়
  • এলাকা নিরাপদ কি না

🧾 ১০. কোম্পানির আর্থিক অবস্থা

অনেক কোম্পানি আর্থিক সমস্যায় পড়ে হঠাৎ কর্মী ছাঁটাই করে। তাই আর্থিক অবস্থাও বোঝা জরুরি।

যা যাচাই করা যায়:

  • কোম্পানির ওয়েবসাইট
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
  • আগের কর্মীদের রেটিং (Glassdoor/Google Review)
  • চাকরি টিকিয়ে রাখার ইতিহাস

উপসংহার

বেসরকারি চাকরিতে যোগদানের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি সফল ক্যারিয়ারের মূল ভিত্তি।
কোম্পানির সুনাম থেকে শুরু করে বেতন কাঠামো, কর্মপরিবেশ, ক্যারিয়ার গ্রোথ—প্রতিটি বিষয় যাচাই করলে ভবিষ্যতে হতাশা বা ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

Post a Comment

0 Comments