সে চাকরি ছাড়েনি, সে শুধু চেষ্টা করা বন্ধ করে দিয়েছিল: Silent Disengagement–এর অদৃশ্য সংকট

সে চাকরি ছাড়েনি, সে শুধু চেষ্টা করা বন্ধ করে দিয়েছিল: Silent Disengagement–এর অদৃশ্য সংকট

 



বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান attrition নিয়ে চিন্তিত থাকে। কতজন কর্মী চাকরি ছাড়ছে, কেন ছাড়ছে, কীভাবে ধরে রাখা যায়। কিন্তু আরও গভীর একটি সমস্যা আছে, যেটা সংখ্যায় ধরা পড়ে না। সেটা হলো silent disengagement।

এটা তখন ঘটে, যখন একজন কর্মী অফিসে আসে, কাজ করে, বেতন নেয়, কিন্তু ভেতর থেকে চেষ্টা করা বন্ধ করে দেয়। বাইরে থেকে সব ঠিকঠাক, কিন্তু ভেতরে তার আগুন নিভে গেছে।

এই গল্পটা এমন একজন কর্মীর, যে চাকরি ছাড়েনি। সে শুধু চেষ্টা করা বন্ধ করে দিয়েছিল।


শুরুটা ছিল স্বপ্ন আর পরিশ্রম দিয়ে

প্রথম বছর, সে নতুন ছিল। শেখার ক্ষুধা ছিল।
সে ভুল করেছে, আবার শিখেছে।
রাত জেগে কাজ করেছে।
নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও অবদান রেখেছে।

কারণ সে বিশ্বাস করত, পরিশ্রমের মূল্য আছে।

দ্বিতীয় বছরে, সে শুধু একজন কর্মী ছিল না, সে হয়ে উঠেছিল একটি নির্ভরযোগ্য নাম।
নতুনদের ট্রেনিং দিয়েছে।
কঠিন সময়ে প্রকল্প বাঁচিয়েছে।
ম্যানেজারদের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছিল।

সে শুধু কাজ করছিল না, সে নিজেকে তৈরি করছিল।


তৃতীয় বছরে জন্ম নেয় প্রত্যাশা

সে পদোন্নতির আশা করেছিল।
এটা অহংকার ছিল না, এটা ছিল স্বাভাবিক প্রত্যাশা।

কিন্তু সে পদোন্নতি পেল না।

সমস্যা পদোন্নতি না পাওয়া নয়।
সমস্যা ছিল, কেউ তাকে বসিয়ে বলেনি কেন পেল না।

কেউ বলেনি—

  • কোথায় তার ঘাটতি ছিল
  • কোন স্কিল উন্নত করতে হবে
  • কী করলে পরেরবার সে যোগ্য হবে

শুধু বলা হয়েছিল, “আরও সময় দাও।”

সে সময় দিয়েছিল।
কিন্তু কেউ তাকে দিকনির্দেশনা দেয়নি।


disengagement শুরু হয় নীরবে

চতুর্থ বছরে, তার কাজের ধরন বদলে গেল।

সে আর নতুন আইডিয়া দিত না।
সে আর অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাত না।
সে শুধু যা বলা হয়, সেটুকুই করত।

ম্যানেজার ভাবলেন, সে mature হয়েছে।
আসলে, সে disengaged হয়ে গেছে।

এটাই silent disengagement।

এখানে কর্মী চাকরি ছাড়ে না।
সে শুধু নিজের সেরাটা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।


কেন এটা এত বিপজ্জনক?

একজন কর্মী যখন ভুল করে, তখন তাকে ট্রেনিং দেওয়া যায়।
একজন কর্মী যখন চাকরি ছাড়ে, তখন তাকে replace করা যায়।

কিন্তু একজন disengaged কর্মী সবচেয়ে বিপজ্জনক।

কারণ—

  • সে আর নতুন কিছু তৈরি করে না
  • সে আর সমস্যার সমাধান খুঁজে না
  • সে শুধু minimum কাজ করে

সে প্রতিষ্ঠানে থাকে, কিন্তু তার সম্ভাবনা আর থাকে না।

প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারে না, তারা একজন কর্মী হারায়নি।
তারা একজন সম্ভাবনাময় মানুষ হারিয়েছে।


প্রতিষ্ঠান কোথায় ভুল করে

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান performance measure করে numbers দিয়ে।
target, output, deadline।

কিন্তু তারা measure করে না energy।

একজন কর্মী কেন motivated?
কেন demotivated?
সে কি তার ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে?

promotion সবসময় দেওয়া সম্ভব নয়।
কিন্তু clarity সবসময় দেওয়া সম্ভব।

একজন কর্মী promotion না পেলেও motivated থাকতে পারে, যদি সে জানে কী করলে সে উন্নতি করতে পারবে।

অনিশ্চয়তা motivation–কে ধ্বংস করে।


leadership-এর আসল দায়িত্ব

যদি আপনি একজন CEO বা manager হন, তাহলে শুধু কাজের ফলাফল দেখবেন না।
মানুষের mindset দেখুন।

প্রশ্ন করুন—

  • আপনার কর্মীরা কি grow করছে?
  • তারা কি valued feel করছে?
  • তারা কি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে?

মানুষ টাকা জন্য কাজ শুরু করে,
কিন্তু সম্মান এবং উন্নতির জন্য কাজ চালিয়ে যায়।


কর্মীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

যদি আপনি সেই কর্মী হন, তাহলে একটা কঠিন সত্য মেনে নিতে হবে।

প্রতিষ্ঠান সবসময় আপনার growth plan তৈরি করবে না।

আপনাকেই নিজের growth–এর দায়িত্ব নিতে হবে।

নতুন skill শিখুন।
নিজেকে improve করুন।
নিজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করুন।

সবচেয়ে বড় ভুল হলো চেষ্টা বন্ধ করে দেওয়া।

কারণ প্রতিষ্ঠান হয়তো notice করবে না,
কিন্তু আপনার ভবিষ্যৎ notice করবে।


ক্যারিয়ার হঠাৎ ভাঙে না

ক্যারিয়ার একদিনে ধ্বংস হয় না।

এটা ধীরে ধীরে ভাঙে, যখন—

  • মানুষ চেষ্টা করা বন্ধ করে
  • শেখা বন্ধ করে
  • নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে

silent disengagement হলো ক্যারিয়ারের নীরব মৃত্যু।


শেষ কথা

একজন কর্মী চাকরি না ছেড়েও হারিয়ে যেতে পারে।

সে অফিসে থাকে, কিন্তু তার passion থাকে না।
সে কাজ করে, কিন্তু তার ambition থাকে না।

প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলো clarity দেওয়া।
নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো inspire করা।
আর একজন কর্মীর দায়িত্ব হলো কখনো চেষ্টা বন্ধ না করা।

কারণ সফল মানুষ আর ব্যর্থ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য talent না।

পার্থক্য হলো—
একজন চেষ্টা চালিয়ে যায়,
আরেকজন নীরবে হাল ছেড়ে দেয়।

Post a Comment

0 Comments