প্রত্যাশা, নীরবতা এবং নতুন পথের সন্ধান

প্রত্যাশা, নীরবতা এবং নতুন পথের সন্ধান

 



কখনও কখনও জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট আসে শত্রুর কাছ থেকে নয়, আসে সেই জায়গা থেকে যেখানে আমরা মূল্যায়ন, সম্মান এবং দিকনির্দেশনা পাওয়ার আশা করি। গতকাল অনেক সাহস সঞ্চয় করে মনের ভেতর জমে থাকা কথাগুলো অফিসের এমডি স্যারকে বলেছিলাম। কোনো অভিযোগ করার জন্য নয়, কোনো বিশেষ সুবিধা চাওয়ার জন্যও নয়। শুধু একটি পরিষ্কার গাইডলাইন, একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত এবং নিজের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আশায়।

তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলেন। আশ্বাসও দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, পরদিন আমাকে নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত জানাবেন। সেই কথায় বিশ্বাস রেখে আজ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে অফিসে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, হয়তো দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হবে। হয়তো সামনে চলার একটি পথ পরিষ্কার হবে।

কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলল।

এমডি স্যার অফিসে এলেন, কিন্তু কোনো আলোচনা হলো না। কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হলো না। দ্রুত আমার পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন। হয়তো তাঁর ব্যস্ততা ছিল, হয়তো অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। কিন্তু অপেক্ষার প্রহর গোনা একজন কর্মীর কাছে সেই নীরবতাটুকুই হয়ে উঠল সবচেয়ে বড় উত্তর।

গত এক মাসে আমাদের অফিসের অনেক কিছু বদলে গেছে। আমার সিনিয়র অফিসার পদত্যাগ করে চলে গেছেন। অফিসে কোনো ম্যানেজার নেই। যিনি সাময়িকভাবে দায়িত্বে ছিলেন, তিনিও প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে গেছেন। নিয়ম অনুযায়ী অনেক দায়িত্ব এখন আমার কাঁধে এসে পড়ার কথা। অথচ আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ আমাকে কিছু জানায়নি, কোনো দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়নি, কোনো গাইডলাইনও দেয়নি।

তবুও আমি থেমে থাকিনি।

কোম্পানির প্রতি দায়বদ্ধতা, নিজের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পেশাগত নীতিবোধ থেকে প্রতিদিন নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, দায়িত্ব শুধু পদবির মাধ্যমে আসে না, আসে বিবেক থেকে।

কিন্তু একটি প্রশ্ন বারবার মনে আসে। যে প্রতিষ্ঠানের জন্য এত সময়, শ্রম এবং আন্তরিকতা দিচ্ছি, সেই প্রতিষ্ঠান যদি আমার প্রতি ন্যূনতম দিকনির্দেশনাও না দেয়, তাহলে সেই সম্পর্কের ভিত্তি কতটা দৃঢ় থাকে?

হয়তো এটাই আমার জীবনের বাস্তবতা। কোনো কিছুই সহজে পাইনি। প্রতিটি অর্জনের পেছনে ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং হতাশা। কখনও কখনও মনে হয়, আমার ভাগ্যে যেন প্রত্যাশার চেয়ে অপেক্ষার পরিমাণই বেশি লেখা আছে।

তবুও জীবন থেমে থাকে না।

হতাশা মানুষকে ভেঙেও দেয়, আবার নতুন পথ খুঁজতে শেখায়। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিজেকে আরও গুছিয়ে নিতে হবে। নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাবনাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। যদি বর্তমান জায়গায় নিজের প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ না পাই, তাহলে হয়তো নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে নিজের জন্য একটি ভালো ভবিষ্যৎ খুঁজে নেওয়ার সময় এসেছে।

আমি কারও প্রতি ক্ষোভ পোষণ করি না। শুধু চাই, আমার শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হোক এবং আমার দায়িত্ব সম্পর্কে একটি পরিষ্কার অবস্থান থাকুক। একজন কর্মীর কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া বিলাসিতা নয়।

আজ মনটা কিছুটা ভারী। তবুও আশা ছাড়িনি। কারণ আমি জানি, প্রতিটি বন্ধ দরজার ওপাশেই হয়তো আরেকটি নতুন দরজা অপেক্ষা করে থাকে।

আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি, নিজের আত্মসম্মান অটুট রাখতে পারি এবং এমন একটি জায়গা খুঁজে পাই যেখানে নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং দায়িত্ববোধের যথার্থ মূল্য দেওয়া হয়।

হয়তো আজকের নীরবতাই আগামী দিনের নতুন শুরুর বার্তা। ❤️🙏


Read More...

অন্ধকারের ভেতরেও আলো থাকে

সত্যিকারের মানুষ কোথায়? স্বার্থপরতার যুগে মানবতার সংকট ও আমাদের করণীয়


Post a Comment

0 Comments